বেলডাঙা কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের বড় ধাক্কা! বহাল থাকল হাইকোর্টের নির্দেশ

Published:

Beldanga Incident

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: সামনেই ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026), দুই দফাতেই হতে চলেছে নির্বাচন। এদিকে রাজ্যের অন্দরে হিংসা ক্রমেই বাড়ছে। ফের খবরের শিরোনামে উঠে এল বেলডাঙা হিংসাকাণ্ড (Beldanga Incident)। সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) ফের বেলডাঙা কাণ্ডে রাজ্যকে ধাক্কা খেতে হল। নথি হস্তান্তর করা নিয়ে আর্জি খারিজ করে দেওয়া হল। হাইকোর্টের রায়ে কোনও হস্তক্ষেপ করল না শীর্ষ আদালত। NIA-এর নথি হস্তান্তর নিয়ে হাইকোর্ট যা নির্দেশ দিয়েছিল সেটাই আপাতত বহাল রাখা হল।

বেলডাঙা হিংসা মামলায় ধাক্কা খেল রাজ্য

বেলডাঙা হিংসা মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি বলেছিলেন, মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার ঘটনায় রাজ্য পুলিশের হাতে যে ডকুমেন্ট বা তথ্য রয়েছে, সেই সবগুলো NIA-কে হস্তান্তর করতে হবে। কিন্তু সেই নির্দেশ মানতে নারাজ হাইকোর্ট। তাই বাধ্য হয়ে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে যায়। সেখানে রাজ্য অভিযোগ জানায় তাদের বক্তব্য পুরো না শুনেই কলকাতা হাইকোর্টের তরফে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু লাভের ল কিছুই হল না। ফের সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খেল রাজ্য সরকার। NIA-এর নথি হস্তান্তর নিয়ে হাইকোর্টের নির্দেশকেই মান্যতা দিল শীর্ষ আদালত।

ঠিক কী ঘটেছিল?

উল্লেখ্য, জানুয়ারি মাসে ঝাড়খণ্ডে আলাউদ্দিন শেখ নামে এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। পরে জানা যায়, আলাউদ্দিনকে খুন করা হয়নি। পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ ঝাড়খণ্ডে গিয়ে সেখানকার পুলিশের তথ্যপ্রমাণ দেখে এসেছিল। এদিকে বেলডাঙায় এর জেরে অশান্ত ছিল বেশ কয়েকদিন। স্টেশন সংলগ্ন রেলগেটে ভাঙচুর চালানো হয়েছিল সেই সময়। রেলের সিগন্যালও ভেঙে ফেলা হয়েছিল। ব্যাহত হয়েছিল রেল পরিষেবা। সড়কপথেও যান চলাচল ব্যাহত হয়েছিল। মারধর করা হয়েছিল সাংবাদিকদেরও। এরপর মামলা ওঠে হাইকোর্টে। সেই সময় আদালত বলেছিল, কেন্দ্র যদি মনে করে, তাহলে বেলডাঙার হিংসা নিয়ে NIA তদন্ত হতে পারে। সেই মতো তদন্ত শুরু করে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। কিন্তু সেই তদন্ত ঠেকাতেই সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল রাজ্য।

আরও পড়ুন: ২৪-র লোকসভা ভোট হিংসায় যুক্ত পুলিশ অফিসারদের তালিকা তলব, বড় পদক্ষেপ কমিশনের

NIA-কে বেলডাঙার কেস ডায়েরি হস্তান্তর করার জন্য গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নির্দেশ দিয়েছিল বিশেষ আদালত। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে এবং সমস্ত তদন্ত প্রক্রিয়ার ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট ঘুরে ফের সেই মামলা দেয় কলকাতা হাইকোর্টে। আর সেই মামলাতেই রাজ্য সরকারের আপত্তি খারিজ করে দেয় কলকাতা হাইকোর্ট।

google button